বাংলাদেশ   সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬, সোমবার ২৮ পৌষ ১৪৩২

ঝিনাইদহ হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন, মিলছে না ফার্মেসিতেও জেলার বাসিন্দারা আতঙ্কিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

মো: নাঈমুর রহমান

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৬ AM

ঝিনাইদহ হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন, মিলছে না ফার্মেসিতেও জেলার বাসিন্দারা আতঙ্কিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

ছবি:সংগৃহীত

জলাতঙ্ক নাম শুনলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়। কুকুর, বিড়াল বা অন্য অনেক প্রাণীর   কামড়ের শিকার হলে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য একমাত্র নিরাপদ উপায় ভ্যাকসিনগ্রহণ। অথচ সেই জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিনই এখন মিলছে না ঝিনাইদহের সরকারি হাসপাতালে। এমনকি ফার্মেসিতেও পাওয়া যাচ্ছে এই ভ্যাকসিন।এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ প্রায় সবখানেই একই চিত্র। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কুকুর-বিড়ালে কামড়ানো রোগী এসে শুনছেন ভ্যাকসিন নেই। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা বাইরে থেকে তা কিনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

কিন্তু জেলার ছয়টি উপজেলার কোনো ফার্মেসিতে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, চিকিৎসকরা আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করে বিভিন্ন ওষুধ কম্পানির ভ্যাকসিনের নাম লিখে ফার্মেসি থেকে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগী ও তাদের স্বজেনরা জীবন রক্ষায় ভ্যাকসিনের জন্য ছুটাছুটি করছেন। তবে ফার্মেসিতেও তা পাওয়া যাচ্ছে না।

অনেকে পার্শ্ববর্তী জেলা শহর থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের চাহিদাও অনেক বেড়েছে। 

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের মজুদ শূন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন করে ভ্যাকসিন আসার কথা থাকলেও বাস্তবে তা আসছে না।ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর ভিড় ও ক্ষোভ।

 

সদর উপজেলার চাপড়ী গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন, ‘কুকরে কামড়ানোর পর দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসি। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারি হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন নেই। বাইরের ফার্মেসিতেও পাওয়া যাচ্ছে না। পরে এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে যশোরের একটি ফার্মেসি থেকে এক ডোজ কিনে নিয়ে আসি। তবে দাম অনেক বেশি নিয়েছে।’

 

শৈলকুপার ভাটই গ্রামের আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘হাসপাতালে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। মাগুরা থেকে ৫০০ টাকার একটি ভ্যাকসিন ৮৫০ টাকায় কিনে তিনজনে ভাগ করে নিয়েছি। তৃতীয় ডোজে কী করব তা নিয়ে এখন থেকে দুশ্চিন্তায় আছি।’

 

ইনসেফটা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিপণন কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘ফার্মেসিগুলো থেকে ভ্যাকসিনের ব্যাপক অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। ডিপোতে সাপ্লাই না থাকায় আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। কাঁচামালের সংকটের কারণে ভ্যাকসিনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’

 

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লিমন পারভেজ বলেন, ‘জলাতঙ্ক প্রাণঘাতী রোগ। কামড়ের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যুঝুঁকি অনিবার্য। তাই এই ভ্যাকসিনের সংকট থাকলেও রোগীকে বাধ্যতামূলক চার থেকে পাঁচ ডোজ নিতে হয়।’

 

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত অক্টোবরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের যে পরিমাণ চাহিদা ছিল, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তার চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। ১৫ ডিসেম্বরের পর জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যতদিন ছিল, ততদিন দেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।’

 

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের মজুদ নেই। প্রতিটি উপজেলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আলাদা আলাদা চাহিদাপত্র দিয়ে রাখা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই ভ্যাকসিন সংকটের সমাধান হবে।’

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!